কুয়েত সিটি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কুয়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের রাইড-শেয়ারিং সেবা চালু করেছে জনপ্রিয় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান উবার (Uber)। গত ১৫ সেপ্টেম্বর (২০২৬) থেকে কুয়েতের বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীরা উবার অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই গাড়ি বুক করতে পারছেন। তবে উবারের এই আগমনে সাধারণ প্রবাসীদের মনে একটি বড় প্রশ্ন জেগেছে— তারা কি নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে পার্ট-টাইম উবার চালিয়ে বাড়তি বা এক্সট্রা ইনকাম করতে পারবেন? কুয়েতের নতুন ট্রাফিক আইন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাধারণ প্রবাসীদের জন্য নিজেদের গাড়িতে এই সুযোগটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
উবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়েতে তাদের অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা মূলত চারটি ক্যাটাগরিতে রাইড বুক করতে পারবেন। এগুলো হলো— ট্যাক্সি (Taxi), উবার কমফোর্ট (Uber Comfort), উবার ব্ল্যাক (Uber Black) এবং উবার লাক্স (Uber Lux)। উদ্বোধনী অফার হিসেবে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত 'GOKUW50' প্রমো কোড ব্যবহার করে নতুন যাত্রীরা তাদের প্রথম দুটি রাইডে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। উবারের এই সেবা চালুর ফলে কুয়েতের যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় ধরনের ডিজিটাল পরিবর্তন আসবে এবং বিদেশিদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রবাসীদের কাজের সুযোগের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কুয়েতের শ্রম ও ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, কোনো প্রবাসী তার নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেট কার) দিয়ে উবার বা অন্য কোনো রাইড-শেয়ারিং অ্যাপে যাত্রী পরিবহন করতে পারবেন না। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। প্রবাসীরা শুধুমাত্র তখনই উবারের সাথে যুক্ত হতে পারবেন, যদি তারা কুয়েতের কোনো নিবন্ধিত ট্যাক্সি কোম্পানিতে ফুল-টাইম চালক হিসেবে বৈধভাবে চাকরি করেন। অর্থাৎ, যাদের আকামায় পেশা 'ট্যাক্সি ড্রাইভার' উল্লেখ আছে এবং যারা কোম্পানির লাইসেন্সকৃত ট্যাক্সি চালান, কেবল তারাই কোম্পানির চুক্তির অধীনে উবারের যাত্রী পরিবহন করতে পারবেন। কোনোভাবেই সাধারণ প্রবাসীদের ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে কাজ করার সুযোগ নেই।
গত জুলাই মাসে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নতুন রাইড-হেইলিং আইন (মিনিস্ট্রিয়াল ডিসিশন ৮৯৩/২০২৬) অনুযায়ী, উবার বা কারিমের (Careem) মতো অ্যাপে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে স্বাধীন চালক হিসেবে কাজ করার অধিকার শুধুমাত্র কুয়েতি নাগরিকদের (Kuwaiti Citizens) জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। এই আইনের শর্তগুলো অত্যন্ত কড়া। একজন কুয়েতি নাগরিককে উবার চালাতে হলে তার বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে এবং তার কোনো অপরাধমূলক বা ট্রাফিক আইন ভঙ্গের রেকর্ড থাকা যাবে না। এছাড়া, ব্যবহৃত গাড়িটি চালকের নিজের নামে নিবন্ধিত হতে হবে এবং উৎপাদনের সাল থেকে কোনোভাবেই তিন বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি গাড়িতে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা থাকা এবং ১২০ দিন পর্যন্ত তার রেকর্ডিং সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে প্রবাসীদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। কোনো প্রবাসী যদি আইন অমান্য করে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে এক্সট্রা ইনকামের আশায় যাত্রী পরিবহন করেন, তবে ধরা পড়লে তাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনের দায়ে চালককে মোটা অঙ্কের জরিমানা, গাড়ি বাজেয়াপ্ত এবং এমনকি সরাসরি কুয়েত থেকে নিজ দেশে ডিপোর্ট (বিতাড়িত) করার মতো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। তাই এক্সট্রা ইনকামের আশায় কোনো ধরনের বেআইনি পথে পা না বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।