দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং পাসপোর্টে নামের বানান বা বয়সের ভুল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন দেশের সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা। একটি ছোট ভুলের কারণে রেমিট্যান্স পাঠানো থেকে শুরু করে নতুন ভিসা লাগানো—সবকিছুতেই আটকে যেতেন তারা। তবে এবার নাগরিকদের এই দীর্ঘদিনের হয়রানি কমাতে পাসপোর্ট ও এনআইডি সংশোধনে বেশ কিছু যুগান্তকারী ও সহজ নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ সরকার।
প্রবাসী টাইম-এর আজকের প্রতিবেদনে চলুন জেনে নেওয়া যাক, নতুন এই নিয়মের ফলে কীভাবে দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে এনআইডি এবং পাসপোর্ট সংশোধন করা যাবে।
এনআইডি সংশোধনে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
আগে এনআইডি কার্ডের যেকোনো বড় ধরনের ভুল (যেমন: নিজের বা পিতা-মাতার নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন, জন্মসাল পরিবর্তন) সংশোধনের জন্য ঢাকার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন অফিসে দৌড়াতে হতো। এতে সাধারণ মানুষের মাসের পর মাস সময় ও অর্থ নষ্ট হতো।
তবে নতুন নিয়মে এই ক্ষমতা এখন বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এখন থেকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী উপজেলা এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারাই বেশিরভাগ সংশোধনের আবেদন যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিতে পারবেন। এর ফলে ঢাকার ওপর চাপ কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নিজ এলাকা থেকেই দ্রুত সেবা পাবেন।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
পাসপোর্ট ও এনআইডি-তে তথ্যের অমিল থাকলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন প্রবাসীরা। নতুন পাসপোর্ট নবায়ন করতে গিয়ে অনেকেই আটকে যান।
সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, প্রবাসীদের এখন আর পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য দেশে ছুটে আসতে হবে না। তারা যে দেশে অবস্থান করছেন, সে দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি (যেমন: শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইন জন্মনিবন্ধন বা ম্যারেজ সার্টিফিকেট) জমা দিয়ে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। প্রবাসীদের আবেদনগুলো এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে (Priority Basis) দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট ও এনআইডি একীভূত করার উদ্যোগ
আগে পাসপোর্ট অফিস এবং নির্বাচন কমিশনের সার্ভার আলাদা হওয়ায় তথ্যের গরমিল দেখা যেত। বর্তমানে এই দুটি সার্ভারকে আরও সমন্বিত করার কাজ চলছে। এর ফলে কোনো নাগরিক যদি সঠিক প্রমাণ দিয়ে তার এনআইডি সংশোধন করেন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই আপডেটেড তথ্য পাসপোর্ট সার্ভারেও ভেরিফিকেশনের জন্য সহজলভ্য হবে। এতে পাসপোর্ট নবায়নের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অন্যান্য জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে।
কী কী ডকুমেন্টস বাধ্যতামূলক?
যেকোনো সংশোধনের ক্ষেত্রে এখন ডিজিটাল বা অনলাইন প্রমাণপত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১. নামের বানান সংশোধনের জন্য জেএসসি/এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
২. যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, তাদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন (যেখানে পিতা-মাতার নাম সঠিকভাবে আছে)।
৩. পিতা বা মাতার নামের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে তাদের এনআইডি কার্ডের কপি।
শেষ কথা
পাসপোর্ট ও এনআইডি সংশোধনের এই নতুন উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আবেদন করার সময় অবশ্যই সঠিক ও জালিয়াতমুক্ত কাগজপত্র সাবমিট করার বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ভুয়া সনদ দিলে আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
পাসপোর্ট বা এনআইডি নিয়ে আপনার কোনো ভোগান্তির অভিজ্ঞতা আছে কি? কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ ও সাম্প্রতিক সংবাদ সবার আগে পেতে যুক্ত থাকুন প্রবাসী টাইম-এর সাথে।