প্রবাসীর দেশে ফেরার লাগেজ: এক মহাকাব্যিক যুদ্ধ ও আত্মীয়দের আবদার!

0



প্রবাসীদের জীবনে সবচেয়ে খুশির দিন কোনটি? যেদিন বেতন হয়? নাহ! সবচেয়ে খুশির দিন হলো যেদিন বসের কাছ থেকে দেশে যাওয়ার ছুটির কাগজটি হাতে পাওয়া যায়। ছুটির কাগজ হাতে পাওয়ার পর প্রবাসীর মনে যে বসন্তের হাওয়া বয়, তা নিয়ে অনায়াসে একটি রোমান্টিক সিনেমা বানিয়ে ফেলা যায়।

তবে এই রোমান্টিক সিনেমাটি খুব দ্রুতই একটি 'হরর' বা ভয়ের সিনেমায় রূপ নেয়, যখন শুরু হয় দেশে ফেরার সবচেয়ে ভয়ংকর মিশন— "লাগেজ প্যাকিং!"

প্রবাসী টাইম-এর আজকের রম্য রচনায় চলুন দেখে আসি একজন প্রবাসীর দেশে ফেরার আগে লাগেজ নিয়ে সেই মহাকাব্যিক যুদ্ধের কিছু খণ্ডচিত্র।

আত্মীয়দের 'ছোট্ট' আবদারের লিস্ট

দেশে যাওয়ার খবরটি কোনোভাবে বাতাসে ভাসতে ভাসতে একবার দেশে পৌঁছালেই হলো! এরপর শুরু হয় মেসেঞ্জার আর হোয়াটসঅ্যাপে আবদারের বন্যা। খালাতো ভাই মেসেজ দেয়, "ভাই, আসার সময় আমার জন্য একটা আইফোন নিয়ে আইসেন। টাকা আমি দেশে গেলে দিমুনে!" (এই 'দিমুনে' নামক টাকার চেহারা প্রবাসী আর জীবনেও দেখে না)।
ফুফু বলেন, "বাবা, আমার তো কিছুই লাগবে না, শুধু ওই দেশের আসল জাইতুনের তেল আর দুইটা কম্বল নিয়ে আসিস।" আর পাড়াপড়শিদের তো শুধু চকলেট আর সাবান দিলেই হয়! সব মিলিয়ে প্রবাসীর নিজের জন্য কেনা দুইটা শার্ট ছাড়া বাকি পুরো লাগেজ হয়ে যায় 'গিফট শপ'।

লাগেজের সাথে কুস্তি

এয়ারলাইন্স থেকে প্রবাসীকে ওজন দেওয়া হয়েছে ৩০ কেজি। কিন্তু প্রবাসীর কেনাকাটা হয়ে গেছে ৪৫ কেজি! এখন শুরু হয় আসল ম্যাজিক। লাগেজের ভেতর জিনিসপত্র এমনভাবে ঠেসে ঢোকানো হয়, যেন এর ভেতরে কোনো বাতাস ঢোকারও জায়গা না থাকে। জিপার লাগানোর সময় দেখা যায়, লাগেজ হা করে আছে! তখন প্রবাসী ভাই লাগেজের ওপর উঠে বসেন, আর রুমমেটকে বলেন, "দোস্ত, আমি চাপ দিয়ে ধরছি, তুই জলদি চেইনটা টাইনা দে!"

দাঁড়িপাল্লা আতঙ্ক

লাগেজ প্যাকিং শেষে শুরু হয় ওজন মাপার পালা। রুমে থাকা ছোট্ট দাঁড়িপাল্লায় লাগেজ তোলার পর দেখা গেল ওজন ৩২ কেজি। এখন ২ কেজি কমাতে হবে। প্রবাসী ভাই লাগেজ খুলে অনেক ভেবেচিন্তে নিজের জন্য কেনা দামি জ্যাকেটটি বের করে রেখে দেন, কিন্তু মায়ের জন্য কেনা ভারী কম্বলটি সরাতে পারেন না। কারণ, ওই কম্বলের ওজনের চেয়ে মায়ের হাসিমুখের ওজন তার কাছে অনেক বেশি!

এয়ারপোর্টের ট্র্যাজেডি

সব যুদ্ধ শেষে এয়ারপোর্টে চেক-ইন কাউন্টারে যাওয়ার পর ঘটে আসল ট্র্যাজেডি। কাউন্টারের অফিসার ওজন মেপে বলেন, "স্যার, আপনার লাগেজ এখনো ৩ কেজি বেশি!"
ফাইন দেওয়ার ভয়ে আমাদের বুদ্ধিমান প্রবাসী ভাই তখন লাগেজের চেইন খুলে সবার সামনেই দুইটা জিন্স প্যান্ট আর তিনটা টি-শার্ট একটার ওপর আরেকটা পরে ফেলেন! গরমে ঘামতে ঘামতে তিনি যখন ইমিগ্রেশন পার হন, তখন তাকে দেখতে অনেকটা মহাকাশচারীর মতো লাগে।

শেষ কথা

এত কষ্ট, এত ঘাম আর লাগেজের সাথে কুস্তি করার পর প্রবাসী যখন দেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়। যখন নিজের হাতে আনা চকলেট পেয়ে বাড়ির পিচ্চিগুলো লাফিয়ে ওঠে, তখন এয়ারপোর্টে ৩ কেজি ওজনের জন্য খাওয়া বকুনিটা আর মনে থাকে না।

আপনার দেশে ফেরার সময় লাগেজ প্যাকিংয়ের সবচেয়ে মজার বা বিপদের অভিজ্ঞতা কোনটি? কমেন্ট করে জানিয়ে দিন প্রবাসী টাইম-এর পাঠকদের!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!