কুয়েত সিটি: কুয়েতে বসবাসরত যেসকল প্রবাসী এখনো বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) সম্পন্ন করেননি, তাদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করেছে কুয়েত সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পরও যারা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়াসহ দেশত্যাগে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা (ট্রাভেল ব্যান) আরোপ করা হচ্ছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যৌথ নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্ন না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। এমনকি তারা তাদের জমানো টাকাও উত্তোলন করতে পারবেন না। পাশাপাশি, এই প্রবাসীরা ছুটি কাটাতে বা একেবারে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্ন করার পরই কেবল তাদের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রমতে, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এবং পরিচয় জালিয়াতি রোধে কুয়েত সরকার বেশ কিছুদিন আগেই সব নাগরিক ও প্রবাসীর জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছিল। এজন্য বিভিন্ন শপিং মল ও সরকারি দপ্তরে বিশেষ বুথও স্থাপন করা হয়। তবে অনেক প্রবাসী সচেতনতার অভাবে অথবা 'সাহেল (Sahel)' অ্যাপে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ার অজুহাতে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে বিরত ছিলেন। এখন আকস্মিকভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় জমাচ্ছেন।
এ বিষয়ে কুয়েতের ট্রাফিক ও রেসিডেন্সি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নিয়ম বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এখনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেননি, তাদের দ্রুত সাহেল বা মেটা (Meta) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে আঙুলের ছাপ ও চোখের স্ক্যান সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আকামা নবায়ন বন্ধ হওয়াসহ আরও কঠিন আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।
প্রবাসী কমিউনিটির নেতারাও এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, কুয়েতের আইনকানুন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক ও কড়াকড়ি। তাই কোনো প্রবাসী যেন অবহেলা করে নিজের বিপদ ডেকে না আনেন। যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে ব্লক হয়ে গেছে, তারা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্ন করার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় সচল অবস্থায় ফিরে পাবেন বলে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।