ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে সরকারের বিশাল প্রণোদনা: উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয়ের সুযোগ

0


দেশে চলমান লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার প্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (Rooftop Solar) ব্যবস্থা স্থাপনে একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে বাড়ির ছাদে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে সাধারণ গ্রাহকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন। প্রবাসী টাইম-এর আজকের প্রতিবেদনে চলুন জেনে নিই এই প্রণোদনা প্যাকেজের বিস্তারিত নিয়ম ও শর্তাবলি।

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক যদি তার বাড়ির ছাদে ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেন এবং নিজের চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেন, তবে সরকার তার কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেবে।

বর্তমান বাজারদর এবং বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনা করে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা। এর সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে প্রতি ইউনিটের চূড়ান্ত মূল্য ১০.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কম খরচে প্যানেল বসালে বাড়তি লাভ

সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ৮ টাকা নির্ধারণ করলেও, কোনো গ্রাহক যদি এর চেয়ে কম খরচে নিজের ছাদে এই ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হন, তবে ওই সাশ্রয় হওয়া পুরো অর্থটাই গ্রাহকের নিজস্ব লভ্যাংশ বা বোনাস হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য এখানে দ্বিগুণ লাভের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শর্ত ও সময়সীমা: কাদের জন্য এই সুবিধা?

তবে এই আকর্ষণীয় প্রণোদনা সুবিধা পাওয়ার জন্য সরকারকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে:
১. সময়সীমা: 'নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫' অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ তারিখের মধ্যে এই ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, কেবল তারাই এই প্রণোদনা পাবেন। এই তারিখের পর স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
২. সুবিধার মেয়াদ: শর্ত পূরণকারী গ্রাহকরা আগামী তিন বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে এই ১০.৫০ টাকা হারে মূল্য পাবেন।
৩. মান নিয়ন্ত্রণ: সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার এবং মিটারসহ ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতি অবশ্যই বিএসটিআই (BSTI) এবং স্রেডা (SREDA)-এর নির্ধারিত মান অনুযায়ী হতে হবে।

কীভাবে মিলবে বিদ্যুতের টাকা?

গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার পর এই টাকা তারা কীভাবে হাতে পাবেন? প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের সরবরাহকৃত বিদ্যুতের হিসাব সংরক্ষণ করবে। প্রতি তিন মাস পরপর এই প্রণোদনার টাকা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (যেমন: বিকাশ, নগদ) মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই এই টাকা নগদে (Cash) প্রদান করা হবে না।

সরকারের মূল লক্ষ্য কী?

আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, গ্যাস, তেল) ওপর চাপ কমাতেই মূলত এই উদ্যোগ। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ (প্রায় ৫,৫০০ মেগাওয়াট) নবায়নযোগ্য খাত থেকে উৎপাদন করা। বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন জমির অপচয় রোধ হবে, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের মতো জাতীয় সমস্যাও দ্রুত সমাধান হবে।

আপনার বাড়ির ছাদে কি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা আছে? সরকারের এই নতুন উদ্যোগকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এবং আপডেট পেতে নিয়মিত পড়ুন প্রবাসী টাইম

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!