Photo: AI
প্রবাস জীবনে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতে পাঠাতে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবার সময় পান না অনেক প্রবাসী। যৌবনকালটা মরুর বুকে বা ভিনদেশে কাটিয়ে একসময় যখন শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়, তখন অনেকেই পড়েন চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায়। বৃদ্ধ বয়সে কারও কাছে যেন হাত পাততে না হয়, সে জন্যই বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য চালু করেছে সর্বজনীন পেনশনের বিশেষ প্যাকেজ— "প্রবাস স্কিম"।
প্রবাসী টাইম-এর আজকের এই বিশেষ গাইডে আমরা জানাব, কীভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের স্মার্টফোন দিয়ে ঘরে বসে এই পেনশনের আওতায় যুক্ত হওয়া যায় এবং এর সুবিধাগুলো কী কী।
'প্রবাস স্কিম' আসলে কী?
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অধীনে শুধুমাত্র বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে 'প্রবাস স্কিম'। এই স্কিমের আওতায় একজন প্রবাসী তার কর্মজীবনে নির্দিষ্ট হারে মাসিক চাঁদা জমা করবেন এবং ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর থেকে আমৃত্যু (মৃত্যুর আগ পর্যন্ত) সরকার থেকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন পাবেন।
চাঁদার পরিমাণ কত এবং লাভ কেমন?
প্রবাসীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে চাঁদার হার নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি ক্যাটাগরিতে:
৫,০০০ টাকা
৭,৫০০ টাকা
১০,০০০ টাকা (এর সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা)
লাভের হিসাব: আপনি যত কম বয়সে এই স্কিম শুরু করবেন, ৬০ বছর পর আপনার পেনশনের পরিমাণ তত বেশি হবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন প্রবাসী যদি ৩০ বছর বয়স থেকে মাসিক ৫,০০০ টাকা করে চাঁদা দেন, তবে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৬২,৩৩০ টাকা করে আজীবন পেনশন পাবেন! এটি যেকোনো ব্যাংকের ডিপিএস বা ফিক্সড ডিপোজিটের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক ও নিরাপদ।
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করবেন কীভাবে? (ধাপে ধাপে নিয়ম)
দালাল বা কোনো এজেন্সির সাহায্য ছাড়াই আপনি নিজে নিজে অনলাইনে এই স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন।
১. প্রথমে আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে ব্রাউজারে গিয়ে upension.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. ওয়েবসাইটের হোমপেজ থেকে "পেনশনার রেজিস্ট্রেশন" অপশনে ক্লিক করুন।
৩. প্যাকেজের ধরন হিসেবে "প্রবাস স্কিম" সিলেক্ট করুন।
৪. আপনার কাছে এনআইডি (NID) কার্ড থাকলে সেটি দিন, না থাকলে পাসপোর্ট নম্বর দিয়েও রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
৫. এরপর স্ক্রিনে আসা ফর্মে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, নমিনির তথ্য (যাকে মৃত্যুর পর টাকা দিতে চান) এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
৬. সবশেষে বিদেশি ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড অথবা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আপনার প্রথম মাসের চাঁদা পরিশোধ করলেই আপনার নামে একটি পেনশন অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাবে।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে, "আমি যদি ৫ বছর পর দেশে একেবারে চলে আসি, তখন কী হবে?"
চিন্তার কোনো কারণ নেই! আপনি দেশে ফিরে এলে এই প্রবাস স্কিমকে সহজেই দেশীয় স্কিমে (যেমন: সুরক্ষা স্কিম) রূপান্তর করে দেশীয় টাকায় চাঁদা চালিয়ে যেতে পারবেন। এছাড়া, জমাকৃত টাকার ওপর আপনি চাইলে ঋণ (Loan) নেওয়ার সুবিধাও পাবেন।
শেষ কথা
"সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।" যৌবনে যখন আয় রোজগার ভালো আছে, তখনই ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রবাস স্কিম হতে পারে আপনার বৃদ্ধ বয়সের সবচেয়ে বড় নির্ভরতার জায়গা।
সর্বজনীন পেনশন বা প্রবাস স্কিম নিয়ে আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। প্রবাসীদের সব দরকারি খবর ও অনলাইন সেবার আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন প্রবাসী টাইম-এ।