সেপ্টেম্বরের ১৯ দিনেই ২৩ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে চাঙা দেশের অর্থনীতি

0


ঢাকা:
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে আবারও বড় ধরনের চমক দেখালেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ৮৭ কোটি টাকার বেশি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই অত্যন্ত ইতিবাচক ও চাঙা চিত্রটি উঠে এসেছে। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, দুবাই, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। শুধু ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই তিন দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ১৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনের তুলনায় এবারের রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর এই একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বৈধ পথে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের দেওয়া আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা এবং ডলারের দাম বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় হুন্ডির প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ আড়াই বিলিয়ন (২৫০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যার পরিমাণ ১৩৬ কোটি ৯ লাখ ডলার। এরপর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং বিশেষায়িত ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে অবশিষ্ট অর্থ। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় মেটাতেও সরকারকে বড় ধরনের স্বস্তি দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা প্রবাসীদের এই অসামান্য অবদানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজারে নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রবাসীদের এই রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে হলে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং হুন্ডি চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় শ্রমবাজারগুলোতে প্রবাসীদের ভিসা ও কাজের পরিবেশ সংক্রান্ত জটিলতাগুলো দ্রুত কূটনৈতিকভাবে সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!