ভূমিকা: চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) থেকে শুরু করে মিডজার্নি (Midjourney) পর্যন্ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এখন প্রযুক্তি দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এটি আমাদের কাজ করার, চিন্তা করার এবং এমনকি সৃষ্টিশীলতার পদ্ধতিকেও বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একদিকে যেমন AI উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং জটিল সমস্যা সমাধানের নতুন দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনই অন্যদিকে চাকরির বাজার নিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিশাল উদ্বেগ। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, AI হয়তো লক্ষ লক্ষ মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে। তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই মানবজাতির জন্য একটি আশীর্বাদ, নাকি এটি চাকরির বাজারের জন্য এক আসন্ন অভিশাপ? এই প্রতিবেদনে আমরা বিষয়টির বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের চেষ্টা করব।
AI যেভাবে চাকরির বাজারে প্রভাব ফেলছে: AI-এর প্রভাব মূলত দুই ধরনের—কিছু কাজকে এটি স্বয়ংক্রিয় (Automate) করে দিচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি মানুষের ক্ষমতাকে বৃদ্ধি (Augment) করছে।
স্বয়ংক্রিয়করণ (Automation): যেসব কাজ পুনরাবৃত্তিমূলক (Repetitive) এবং ডেটা-ভিত্তিক, সেগুলো AI দ্বারা সহজেই স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা এন্ট্রি, গ্রাহক পরিষেবা, সাধারণ অ্যাকাউন্টিং এবং সফটওয়্যার টেস্টিং-এর মতো কাজগুলো AI টুলস ব্যবহার করে অনেক দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে করা যায়। এর ফলে এই ধরনের পদের সংখ্যা ভবিষ্যতে কমে যাওয়ার একটি সুস্পষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।
অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ চাকরি AI এবং প্রযুক্তির কারণে পরিবর্তিত বা বিলুপ্ত হতে পারে।ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) একটি রিপোর্ট ক্ষমতা বৃদ্ধি (Augmentation): অন্যদিকে, AI অনেক পেশাদারদের জন্য একটি শক্তিশালী সহকারী হিসেবে কাজ করছে। ডাক্তাররা AI ব্যবহার করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে পারছেন, আইনজীবীরা বিশাল আইনি নথি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করছেন, এবং বিজ্ঞানীরা জটিল ডেটা বিশ্লেষণ করে নতুন আবিষ্কার করছেন। এক্ষেত্রে AI মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহযোগী হিসেবে কাজ করছে, যা কাজের মান এবং গতি উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রোগ্রামাররা AI-এর সাহায্যে কোড লিখছেন, এবং গ্রাফিক ডিজাইনাররা AI টুল ব্যবহার করে তাদের প্রাথমিক ধারণাগুলোকে দ্রুত দৃশ্যমান রূপ দিচ্ছেন।
নতুন ধরনের চাকরির সৃষ্টি: ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি শিল্প বিপ্লব পুরনো কিছু চাকরির অবসান ঘটিয়েছে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। AI বিপ্লবও এর ব্যতিক্রম নয়। AI প্রযুক্তি পরিচালনা, উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হবে। যেমন:
AI স্পেশালিস্ট ও ডেটা সায়েন্টিস্ট: AI মডেল তৈরি এবং প্রশিক্ষণের জন্য এই পেশার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
AI এথিক্স অফিসার: AI-এর নৈতিক এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য এই পদের গুরুত্ব বাড়বে।
প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার: AI মডেলগুলো থেকে সবচেয়ে ভালো ফলাফল বের করে আনার জন্য কীভাবে সঠিক প্রশ্ন বা নির্দেশ (Prompt) দিতে হয়, সেই দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই নতুন পেশা তৈরি হয়েছে।
AI সিস্টেম ট্রেইনার: AI অ্যালগরিদমগুলোকে প্রশিক্ষিত করার জন্য এবং তাদের ভুলগুলো সংশোধন করার জন্য মানুষের প্রয়োজন হবে।
আমাদের কী করণীয়?
AI-এর এই ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের দক্ষতা উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
১. ক্রমাগত শেখা (Lifelong Learning): প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই নতুন দক্ষতা অর্জন এবং পুরনো দক্ষতাকে আপগ্রেড করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন
উপসংহার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে চাকরির বাজারে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে। কিছু প্রচলিত চাকরির বিলুপ্তি ঘটলেও এটি অগণিত নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে। AI আশীর্বাদ হবে না অভিশাপ, তা নির্ভর করবে আমরা কীভাবে এর সাথে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছি তার ওপর। ভয় পেয়ে পিছিয়ে না গিয়ে, নতুন প্রযুক্তিকে জানা, শেখা এবং একে সঠিকভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমেই আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারব এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারব।